ঢাকা, বুধবার ০২, সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১৩:১৫:১৯ পিএম

First woman affairs online newspaper of Bangladesh : Since 2012

Equality for all
Amin Jewellers Ltd. Gold & Diamond
শিরোনাম
জামিন মেলেনি, কারাগারেই থাকছেন বিদিশা এরশাদ দেশের বাজারে আবারও কমল সোনার দাম নেপালে বন্যায় ৪৩ হাজার নারী ও কিশোরীর জরুরি সহায়তা প্রয়োজন খুলনায় মাঝ নদীতে ফেরি-ট্রলার সংঘর্ষ, উদ্ধার ৪০ আজ থেকে একাদশে ভর্তির আবেদন শুরু ৬ অঞ্চলে ঝড়ের শঙ্কা, নদীবন্দরে ১ নম্বর সতর্কসংকেত নারী টি-২০: র‌্যাঙ্কিংয়ে মারুফা-সোবহানার উন্নতি

সর্দি-কাশি থেকে ডেঙ্গু, শিশুকে যেভাবে রাখবেন সুরক্ষিত 

লাইফস্টাইল ডেস্ক | উইমেননিউজ২৪

প্রকাশিত : ১২:০২ পিএম, ২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ বুধবার

সংগৃহীত ছবি

সংগৃহীত ছবি

বর্ষা এলেই শিশুদের নিয়ে বাড়ে দুশ্চিন্তা। কখনও সর্দি-কাশি, কখনও জ্বর, আবার কখনও দেখা দেয় পেটের নানা সমস্যা। ঋতু পরিবর্তনের এই সময়ে শিশুদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কিছুটা দুর্বল থাকায় বিভিন্ন সংক্রমণে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ে। এর মধ্যে সর্দি-কাশি, পেটের সংক্রমণ, টাইফয়েড থেকে শুরু করে ডেঙ্গু ও ম্যালেরিয়ার মতো রোগও দেখা দিতে পারে।


তাই বর্ষায় শিশুকে সুস্থ রাখতে শুধু বৃষ্টিতে ভেজা এড়ানোই যথেষ্ট নয়। খাবার, পানি, পরিচ্ছন্নতা এবং মশার উপদ্রব নিয়েও বাড়তি সতর্ক থাকা জরুরি।


সর্দি-কাশি ও জ্বরের প্রকোপ


বর্ষায় শিশুদের সবচেয়ে বেশি দেখা যায় সর্দি-কাশি ও জ্বরের সমস্যা। বৃষ্টিতে না ভিজলেও এই সময়ে শিশুরা জ্বরে আক্রান্ত হতে পারে। কারণ, ঋতু পরিবর্তনের সময় কিছু জীবাণু বেশি সক্রিয় হয়ে ওঠে। শিশুর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা দুর্বল থাকলে সহজেই বিভিন্ন ভাইরাসজনিত সংক্রমণে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকে।


বাড়ির কারও সর্দি-কাশি থাকলে শিশুর কাছাকাছি যাওয়া এড়িয়ে চলা উচিত। প্রয়োজন হলে মুখে আবরণ ব্যবহার করাও যেতে পারে।

দূষিত পানিতে পেটের সংক্রমণ


বর্ষায় শিশুদের মধ্যে পেটের সংক্রমণের সমস্যাও বাড়তে পারে। দূষিত পানি পান করলে হেপাটাইটিস, টাইফয়েড, জন্ডিস ও পেট খারাপের মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে।


তাই শিশুকে সবসময় নিরাপদ পানি পান করানো জরুরি। পেটের সমস্যা থাকলে পানি ফুটিয়ে ঠান্ডা করে খাওয়ানো ভালো। পাশাপাশি বর্ষায় বাইরের অস্বাস্থ্যকর খাবার এড়িয়ে চলাও জরুরি।


মশার কামড়ে বাড়ে ডেঙ্গু-ম্যালেরিয়ার ঝুঁকি


বর্ষায় মশার উপদ্রব বেড়ে যাওয়ায় শিশুদের ডেঙ্গু ও ম্যালেরিয়ার ঝুঁকিও বাড়ে। বাড়ির আশপাশে জমে থাকা পানিতে মশা বংশবিস্তার করতে পারে। তাই শিশুকে মশাবাহিত রোগ থেকে সুরক্ষিত রাখতে ঘরের পাশাপাশি বাড়ির আশপাশও পরিষ্কার রাখা প্রয়োজন।


শিশুকে মশারির মধ্যে ঘুমানোর অভ্যাস করাতে হবে। একই সঙ্গে বাড়ির কোথাও যেন পানি জমে না থাকে, সেদিকেও খেয়াল রাখতে হবে।


শিশুকে সুস্থ রাখতে যা করবেন


বর্ষায় শিশুর যত্নে কয়েকটি বিষয় মেনে চলা জরুরি—


১. বাইরে থেকে ফিরে হাত-পা ভালোভাবে ধোয়ার অভ্যাস করান।
২. খাবার খাওয়ার আগে অবশ্যই হাত ধুতে শেখান।
৩. নিরাপদ ও পরিষ্কার পানি পান করান।
৪. বর্ষায় বাইরের খাবার যতটা সম্ভব এড়িয়ে চলুন।
৫. বাড়ির কারও সর্দি-কাশি হলে শিশুকে দূরে রাখুন।
৬. ডেঙ্গু থেকে বাঁচতে মশারি ব্যবহার করুন।
৭. বাড়ির আশপাশে কোথাও পানি জমতে দেবেন না।


কখন চিকিৎসকের পরামর্শ জরুরি?


শিশুর জ্বর তিন থেকে চার দিন পরেও না কমলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া শিশুকে কোনো জীবাণুনাশক ওষুধ খাওয়ানো ঠিক নয়।


পেট খারাপের সঙ্গে শরীরে পানিশূন্যতার লক্ষণ দেখা দিলেও দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। কারণ এ ধরনের উপসর্গের পেছনে হেপাটাইটিস, টাইফয়েড বা জন্ডিসের মতো সমস্যাও থাকতে পারে।


বর্ষায় শিশুর অসুস্থতা পুরোপুরি ঠেকানো সবসময় সম্ভব নয়। তবে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা, নিরাপদ খাবার ও পানি, মশা নিয়ন্ত্রণ এবং সময়মতো চিকিৎসকের পরামর্শ—এই কয়েকটি বিষয়ে সতর্ক থাকলে অনেকটাই ঝুঁকি কমানো সম্ভব।